মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান জোরদার, জঙ্গিবাদ বিস্তৃতির আশঙ্কা

 

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর (ইসলামিক স্টেট) নাম করে ইয়েমেন-লিবিয়া আর সোমালিয়াতে অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে। সিএনএন জানিয়েছে, বৃহত্তর সামরিক লক্ষ্য অর্জনে মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলোতে ‘কৌশলগত প্রভাব সৃষ্টি’র স্বার্থে মার্কিন কমান্ডারদের স্বাধীনভাবে আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এজন্য প্রেসিডেন্টের অনুমোদন নিতে হবে না তাদের। পাশাপাশি অভিযানে ড্রোন ব্যবহারের অধিকার পেতে যাচ্ছে তারা। তবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের নাম করে এইসব অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হলেও বিশ্লেষকরা এইসব অভিযানে জঙ্গিবাদ হ্রাসের সম্ভাবনা দেখছেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা উল্টো জঙ্গিবাদকেই উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫ দিন পর এক ডিনারে বসে ইয়েমেনে এক বিশেষ অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ১ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প আল কায়দার বিরুদ্ধে ওই অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম স্টেট ডটকম-এর এক খবর অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত দিতে গোয়েন্দাদের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনটাও বোধ করেননি ট্রাম্প। ওই অভিযানে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন একজন মর্কিন সেনা। বুধবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সিএনএন দাবি করে, হোয়াইট হাউসের কাছে লিবিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে অনেকদিন ধরেই এমন ‘স্বাধীন অভিযান’ পরিচালনার অনুমতি চাইছিল সেনাবাহিনী। অনুমতি মেলায় এখন থেকে মার্কিন কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে ইয়েমেন, লিবিয়া এবং সোমালিয়াতে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এজন্য আলাদা করে তাদের প্রেসিডেন্টের কাছে অনুমতি নিতে হবে না তাদের। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে সিএনএন দাবি করছে, প্রেসিডেন্ট নিজেই এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে ওবামা প্রশাসন আগেই ওই অনুমতি দিয়ে রেখেছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে সিএনএন-এর ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সিআইএকে ড্রোন ব্যবহারের অনুমতিও দিতে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে সিআইএর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন আল-কায়েদার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আবু আল খায়ের আলমাসরি। আবারও সিআইএকে এভাবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তারা। ওবামা প্রশাসন অবশ্য সিআইএকে ড্রোন ব্যবহার করতে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিল না। সিআইএ তথ্য দিবে এবং সেনাবাহিনী হামলা চালাবে এমন নীতিতেই বিশ্বাসী ছিলেন ওবামা। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ড্রোন হামলা যেই চালাক না কেন মূল লক্ষ্য থাকবে বেসামরিক কেউ হতাহত না হয়।

পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, গত দুই সপ্তাহে ইয়েমেনে প্রায় ৪০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই আসছে দিনগুলোতে অভিয়ান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করতেন, অভিযানের ব্যর্থতা ও বিতর্ক এড়াতে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্টতা জরুরি। সে কারণে প্র্রেসিডেন্ট ওবামা একবারই স্বাধীন অভিযানের অনুমতি দিয়েছিলেন, যখন মার্কিন সেনাসদস্য শত্রুপক্ষের সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছিলেন। সেসময় ‘আত্মরক্ষার’ জন্য হোয়াইট হাউসের অনুমতি ছাড়াই হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে পেন্টাগন। তবে সিএনএন এর বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়াতেও অনেকবার এই ঘটনা ঘটেছে। সোমালিয়ায় স্থানীয় সরকারি বাহিনীকে পরামর্শ প্রদান করেন মার্কিন বিশেষ বাহিনী। সেখানেও হোয়াইট হাউসের অনুমোদন ছাড়া অভিযানে গেছে বলে দাবি সিএনএন এর।
ওবামা তার দায়িত্বকালের শেষ সময়ে লিবিয়ার সির্তে এলাকায় হামলা চালানোর অনুমতি দেন। একটা সময় সেখানে আইএস এর আধিপত্য ছিল। সেখান থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সর্বশেষ ডিসেম্বরে সির্তে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে এক ঘোষণায় দাবি করে মার্কিন সরকার। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস সোমবার বলেন, ‘হোয়াইট হাউস মাঝে মাঝে স্থান ও কালভেদে সামরিক বাহিনীকে সুযোগ দেয়। সির্তের অভিযানের সময় এই সুযোগই দিয়েছিল পূর্ববর্তী প্রশাসন।’

লিবিয়ায় এখনও অনেক বিষয়ে বিভাজন স্পষ্ট। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংঘর্ষ চলছেই। সির্তে এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে আইএস।

গৃহযুদ্ধের কারণে অস্থিতিশীল অবস্থা ইয়েমেনেও। দেশটির আদিবাসী এলাকায় আল-কায়েদা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সোমালিয়ার অবস্থাও প্রায় একই। সন্ত্রাসী সংগঠন আল-শাবাবের সঙ্গে যুদ্ধ লেগেই আছে সরকারি বাহিনীর। আফ্রিকায় মার্কিন কমান্ডের জেনারেল থমাস ওয়াল্ডহসার বলেন, ২০১৬ সালে সোমালিয়ার বেশ কিছু এলাকা দখল করে আল শাবাব। সেখান থেকে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে তারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘সোমালিয়ার আইএস এর প্রবেশের ব্যাপারেও তথ্য পাওয়া গেছে।’ সির্তের সফলতার পরও লিবিয়ায় আইএস পুনদর্খল করার চিন্তা করছে।’
Vision ad on bangla Tribune
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান জোরদার, জঙ্গিবাদ বিস্তৃতির আশঙ্কা

মাহাদী হাসান১৩:৩৪, মার্চ ১৭, ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর (ইসলামিক স্টেট) নাম করে ইয়েমেন-লিবিয়া আর সোমালিয়াতে অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে। সিএনএন জানিয়েছে, বৃহত্তর সামরিক লক্ষ্য অর্জনে মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলোতে ‘কৌশলগত প্রভাব সৃষ্টি’র স্বার্থে মার্কিন কমান্ডারদের স্বাধীনভাবে আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এজন্য প্রেসিডেন্টের অনুমোদন নিতে হবে না তাদের। পাশাপাশি অভিযানে ড্রোন ব্যবহারের অধিকার পেতে যাচ্ছে তারা। তবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের নাম করে এইসব অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হলেও বিশ্লেষকরা এইসব অভিযানে জঙ্গিবাদ হ্রাসের সম্ভাবনা দেখছেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা উল্টো জঙ্গিবাদকেই উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫ দিন পর এক ডিনারে বসে ইয়েমেনে এক বিশেষ অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ১ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প আল কায়দার বিরুদ্ধে ওই অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম স্টেট ডটকম-এর এক খবর অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত দিতে গোয়েন্দাদের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনটাও বোধ করেননি ট্রাম্প। ওই অভিযানে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন একজন মর্কিন সেনা। বুধবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সিএনএন দাবি করে, হোয়াইট হাউসের কাছে লিবিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে অনেকদিন ধরেই এমন ‘স্বাধীন অভিযান’ পরিচালনার অনুমতি চাইছিল সেনাবাহিনী। অনুমতি মেলায় এখন থেকে মার্কিন কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে ইয়েমেন, লিবিয়া এবং সোমালিয়াতে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এজন্য আলাদা করে তাদের প্রেসিডেন্টের কাছে অনুমতি নিতে হবে না তাদের। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে সিএনএন দাবি করছে, প্রেসিডেন্ট নিজেই এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে ওবামা প্রশাসন আগেই ওই অনুমতি দিয়ে রেখেছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে সিএনএন-এর ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সিআইএকে ড্রোন ব্যবহারের অনুমতিও দিতে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে সিআইএর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন আল-কায়েদার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আবু আল খায়ের আলমাসরি। আবারও সিআইএকে এভাবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তারা। ওবামা প্রশাসন অবশ্য সিআইএকে ড্রোন ব্যবহার করতে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিল না। সিআইএ তথ্য দিবে এবং সেনাবাহিনী হামলা চালাবে এমন নীতিতেই বিশ্বাসী ছিলেন ওবামা। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ড্রোন হামলা যেই চালাক না কেন মূল লক্ষ্য থাকবে বেসামরিক কেউ হতাহত না হয়।

পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, গত দুই সপ্তাহে ইয়েমেনে প্রায় ৪০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই আসছে দিনগুলোতে অভিয়ান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করতেন, অভিযানের ব্যর্থতা ও বিতর্ক এড়াতে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্টতা জরুরি। সে কারণে প্র্রেসিডেন্ট ওবামা একবারই স্বাধীন অভিযানের অনুমতি দিয়েছিলেন, যখন মার্কিন সেনাসদস্য শত্রুপক্ষের সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছিলেন। সেসময় ‘আত্মরক্ষার’ জন্য হোয়াইট হাউসের অনুমতি ছাড়াই হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে পেন্টাগন। তবে সিএনএন এর বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়াতেও অনেকবার এই ঘটনা ঘটেছে। সোমালিয়ায় স্থানীয় সরকারি বাহিনীকে পরামর্শ প্রদান করেন মার্কিন বিশেষ বাহিনী। সেখানেও হোয়াইট হাউসের অনুমোদন ছাড়া অভিযানে গেছে বলে দাবি সিএনএন এর।

ওবামা তার দায়িত্বকালের শেষ সময়ে লিবিয়ার সির্তে এলাকায় হামলা চালানোর অনুমতি দেন। একটা সময় সেখানে আইএস এর আধিপত্য ছিল। সেখান থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সর্বশেষ ডিসেম্বরে সির্তে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে এক ঘোষণায় দাবি করে মার্কিন সরকার। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস সোমবার বলেন, ‘হোয়াইট হাউস মাঝে মাঝে স্থান ও কালভেদে সামরিক বাহিনীকে সুযোগ দেয়। সির্তের অভিযানের সময় এই সুযোগই দিয়েছিল পূর্ববর্তী প্রশাসন।’

লিবিয়ায় এখনও অনেক বিষয়ে বিভাজন স্পষ্ট। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংঘর্ষ চলছেই। সির্তে এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে আইএস।

গৃহযুদ্ধের কারণে অস্থিতিশীল অবস্থা ইয়েমেনেও। দেশটির আদিবাসী এলাকায় আল-কায়েদা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সোমালিয়ার অবস্থাও প্রায় একই। সন্ত্রাসী সংগঠন আল-শাবাবের সঙ্গে যুদ্ধ লেগেই আছে সরকারি বাহিনীর। আফ্রিকায় মার্কিন কমান্ডের জেনারেল থমাস ওয়াল্ডহসার বলেন, ২০১৬ সালে সোমালিয়ার বেশ কিছু এলাকা দখল করে আল শাবাব। সেখান থেকে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে তারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘সোমালিয়ার আইএস এর প্রবেশের ব্যাপারেও তথ্য পাওয়া গেছে।’ সির্তের সফলতার পরও লিবিয়ায় আইএস পুনদর্খল করার চিন্তা করছে।’

দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধাননীতি অস্বীকারের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি দমননীতিকে অনুমোদন করেন। ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় অংশীদারত্ব জোরদার করেন। তুরস্কের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার নির্দেশে তুরস্ক সফর করেন সিআইএ প্রধান। সবমিলে পুরনো ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের চিরবন্ধু শক্তি সৌদি-তুরস্ককে নিয়ে ইরান-ফিলিস্তিনবিরোধী অবস্থান সুস্পষ্ট করেন তিনি। কংগ্রেসে সেই ধারাবাহিকতায় তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুপ্রতীম শক্তিগুলোকে নিয়েই তিনি আইএস মোকাবেলা করবেন’। সেই ‘আইএস মোকাবেলার’ কথা বলেই তিন দেশে মার্কিন কমান্ডারদের স্বাধীন অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যনীতিকে মার্কিন আগ্রাসনের বাসনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, প্রথম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়া সাত দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সন্ত্রাসের সঙ্গে খুব একটা জড়িত নয়। আর ব্যক্তি পর্যায়ের কোনও হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসী হুমকি হতে পারে না। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে বার্তা সংস্থা এপি এই রিপোর্ট প্রকাশ করে। এক সপ্তাহ পরেই এমএসএনবিসির র‍্যাচেল ম্যাডো চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পান। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো বেশিরভাগ অভিবাসী সন্ত্রাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরে এমন পথ বেছে নেয়। কয়েক বছর ধরে তাদের উপর বৈষম্য, মানসিক যন্ত্রণার কারণে ক্ষুব্ধ কিংবা হতাশ হয়ে সন্ত্রাসের পথে পা বাড়ায়।

বিশ্লেষকরা বারবারই বলে আসছেন, ইসলামফোবিয়ার কারণে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হচ্ছেনা বরং ইসলামি জঙ্গিবাদ বাড়ছে। অনেকে মনে করেছিলেন, ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিজ দেশের আদালতে প্রত্যাখান হওয়ার পর তিনি থেমে যাবেন। এক রিপোর্টে ম্যাডো বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় মুসলিম নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে গেছে।’ তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিবেদনে ভ্রুক্ষেপ করেননি ট্রাম্প। আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের নিষিদ্ধ করতে বদ্ধ পরিকর তিনি।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী নিজের অহংকারের কারণেই হয়তো ভুল স্বীকার করছেন না এবং নিজের নীতি থেকে সরে আসছেন না। যখন প্রথম নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তখন বিশেষজ্ঞরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং বোকামি বলে উল্লেখ করেন তারা। তবে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের নির্বোধের চেয়েও বেশি কিছু বলে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারিগর স্টিভ ব্যাননই হারিয়ে যেতে পারেন। তিনি আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘খ্রিষ্টানদের পশ্চিমা বিশ্ব এখন ইসলামিক আদর্শের সঙ্গে যুদ্ধে আছে। আর আমরা ইসলামি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধে লিপ্ত। ’ এমন বক্তব্যই আসলে মুসলিমদের পথভ্রষ্ট করছে এবং জঙ্গিবাদকে উষ্কে দিচ্ছে।