ক্যানসারের আছে অ্যানসার

 

কিছু কিছু রোগ বা ব্যাধি শুধু রোগীকে নয়, দিশেহারা করে দেয় পরিবারসহ নিকটাত্মীয়কে। এমনকি বিচলিত করে তোলে অনাত্মীয়কেও। আর্থিক ও মানসিকভাবে নিঃশেষ করে দেওয়া রোগটির নাম ক্যানসার।

জন হপকিন্সের এক গবেষণা তথ্যে জানা যায়, প্রত্যেক মানুষের শরীরে ক্যানসার কোষ থাকে। এসব কোষ এক জীবনে ছয় থেকে দশবার তৈরি হয়। আশার কথা, মানব শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ায় কোষগুলো বাড়তে পারে না।

বাংলাদেশে ক্যানসার রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি নানা হাসপাতাল, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও পত্রিকার লেখা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত। প্রতি বছর মৃত্যু ঘটে প্রায় দেড় লাখ লোকের। এর মধ্যে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

ক্যানসার শুধু একটি মাত্র রোগ নয়, বরং একগুচ্ছ রোগের সমষ্টি। সাধারণত আমাদের শরীরের ফুসফুস, স্তন, রক্ত, ত্বক ও কোলনে ক্যানসার বাসা বাঁধে। এ মরণব্যাধি থেকে উত্তরণের কার্যকর কোনো ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয়নি। তবে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করাতে পারলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী ক্যানসার ঝুঁকির কিছু কারণ জেনে নিতে পারেনÑ

ক.   ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ

খ.    অ্যালকোহল পান

গ.    অতিরিক্ত ওজন

ঘ.    সুষম খাবারের অভাব

ঙ.   হেলিকোব্যাক্টর পাইলরি, হেপাটাইটিস-বি, সি ভাইরাস

চ.    কয়েক রকমের হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসজনিত দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত

ছ.    পরিবেশ ও পেশাগত কারণ। যেমনÑ গ্যাস, রঙ কিংবা রাবারের কারখানায় কাজ করলে

জ.   কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম না করলে

ঝ.   পারিবারিক ইতিহাস বা জিনগত কারণ

কিছু উপসর্গ

ক.   অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করা

খ.    ক্ষুধা কমে যাওয়া

গ.    শরীরের কোনো অংশে চাকা হওয়া

ঘ.    দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙা

ঙ.   মলত্যাগে পরিবর্তন আসা

চ.    জ্বর, রাতে ঠাণ্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া

ছ.    অতিরিক্ত ওজন কমা

জ.   মাত্রাতিরিক্ত রক্তপাত

ঝ.   ত্বকে পরিবর্তন

মনে রাখা প্রয়োজন, উপসর্গ দেখা মানেই যে ক্যানসার, তা কিন্তু নয়। প্রাযুক্তিক বিকাশের ফলে ক্যানসার চিকিৎসায় দিন দিন সাফল্য বাড়ছে। এ কারণে অনেক ক্যানসার সূচনা পর্যায়ে চিহ্নিত করা যায়। ফলে চিকিৎসা করানো যায় ও নিরাময়ও সম্ভব হয়। আবার অন্তিম পর্যায়েও ব্যথাবেদনা উপশমের চেষ্টা করা যায়। ধীরগতির করে দেওয়া যায় এর অগ্রগতি। একই সঙ্গে রোগী ও তার স্বজনদের এ রোগ মোকাবেলার জন্য সহায়তা করা যায়।

ব্যাধিটি প্রতিরোধের উপায় হিসেবে সহজ কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি। যেমনÑ ধূমপান ও মদ্যপান না করা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, স্থূল না হওয়া, ক্যানসারজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা, পরিবেশ দূষণ রোধ ইত্যাদি। অনেক প্রতিরোধ কর্মসূচি সাশ্রয়ী ও কম খরচের। তবে একে ঠিকমতো পরিকল্পনা করে প্রয়োগ করা হলো বড় কাজ। সম্পদ যাই হোক, আমরা ক্যানসার মহামারীকে ঠেকানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিতে পারি, জীবন বাঁচাতে পারি। কমাতে পারি অসংখ্য মানুষের অহেতুক ভোগান্তি ও কষ্ট।

প্রসঙ্গত ক্যানসার প্রতিরোধ ও ক্যানসার আক্রান্তদের জীবনের গুণগতমান বাড়ানো এবং এ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ পালন হয় বিশ্ব ক্যানসার দিবস।

Leave a comment