বিজনেস আইডিয়া

 

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন বিজনেস।

অনলাইনে আয় এখন অনেকের কাছে পছন্দের একটি বিষয়। গৎবাঁধা চাকরি জীবনের গণ্ডি কাটিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে আয় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেকে সেদিকেই ঝুঁকছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। বিজ্ঞাপন, লেখালেখি, ছবি-সৃজনশীল চিত্রকর্ম বিক্রিসহ আরও অনেকভাবে আয় করার সুযোগ দিন দিন বাড়ছে।

তবে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ভাষা, আইন-কানুন আর আয় করা অর্থ পাওয়া নিয়ে বেশকিছু জটিলতা রয়েছে। তারপরও বাধ্য হয়ে অনেকে সেখানে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। তাই এ বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। স্বল্পপরিসরে কিছু প্ল্যাটফর্ম থাকলেও এখনও বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

আপনি চাইলে গড়ে তুলতে পারেন গুগল অ্যাডসেন্স, চিতিকা, ইনফোলিংকসের মতো বিজ্ঞাপন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে যারা অনলাইন বিজ্ঞাপন নিয়ে কাজ করছেন, তারা স্বল্প সময়ে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। একইভাবে স্বনামখ্যাত ব্লগ ট্রিওন্ড, ফান্ডস ফর রাইটারসহ লেখালেখির জন্য পেমেন্ট করে এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্মও তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে আইস্টকফটো, শাটারস্টক, ড্রিমসটাইম, ফটোলিয়ার মতো ছবি ও সৃজনশীল শিল্পকর্ম সংগ্রহশালা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান ছবি নিয়ে কাজ করলেও এক্ষেত্রে নতুন কিছু করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আপনি নতুন একটি দিগন্তের সূচনা করতে পারবেন।

বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর আদলে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে আপনার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট। একটি অত্যাধুনিক ওয়েবসাইট নিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে আপনি সেই সাইটটিকেই লেখালেখি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আয়ের পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।

একটি প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইটের জন্য মানসম্পন্ন লেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি চাইলে দেশের উদীয়মান লেখকদের কাছ থেকে অনায়াসে কম সম্মানিতে লেখা সংগ্রহ করতে পারেন। কিংবা যারা শখের বশে ফেসবুক-টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত লেখেন, তাদের কাঁচা লেখাও অনুমতি নিয়ে সুখপাঠ্য করে উপস্থাপন করতে পারেন। আর সেই বাংলা লেখাটিরই হুবহু অনুবাদ করে পেয়ে যাবেন একটি মানসম্পন্ন ইংরেজি আর্টিকেল। যা দিয়ে একটি ইংরেজি ভার্সন তৈরি করে আপনার প্ল্যাটফর্মকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পারবেন। একইভাবে শখের ফটোগ্রাফারদের তোলা ছবি আর তরুণ আঁকিয়েদের আঁকিবুকি নিয়ে সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে পারেন। ওই সংগ্রহশালা থেকে কোনো কিছু বিক্রি হলে তার একটি অংশ কম ঝামেলায় ফটোগ্রাফার বা শিল্পীকে হাতখরচ হিসেবে দিতে পারেন। একইভাবে আর্টিকেল লেখকের বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের একটি অংশ দেওয়া হলে তাদের আগ্রহ বাড়বে। এভাবে আমাদের দেশেই গড়ে উঠবে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করার প্ল্যাটফর্ম, যা কর্মসংস্থান তৈরিতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Leave a comment